Date: May 22, 2026
ফকল্যান্ডের ছায়া, রসি-রেনেসাঁ এবং ইতালির ‘প্রত্যাবর্তন’
১৯৩৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের সময় পৃথিবী দাঁড়িয়ে ছিল এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধের দোরগোড়ায়। সেই বিশ্বযুদ্ধের গ্রাসে ১২টি বছর বিশ্বকাপ হারিয়ে গিয়েছিল কোন অন্ধকারে! ফুটবলকে হার মানিয়ে দিয়েছিল যুদ্ধ। কিন্তু ১৯৮২ সালে এসে দেখা গেল উল্টো ছবি। এবার যুদ্ধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠল ফুটবল, কিংবা বলা ভালো ক্রীড়া–বাণিজ্য। স্পেনের মাঠে যা ঘটল, তা ফুটবল ইতিহাসে আগে কখনো দেখেনি কেউ। সেই প্রথম দেখা গেল, দুই দেশ একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ছে, আবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও খেলছে!
ফকল্যান্ডের যুদ্ধ ও মাঠের ফুটবল
১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল। আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা হঠাৎ আক্রমণ করে বসলেন ‘আইলাস মালভিনাস’ বা ফকল্যান্ড দ্বীপে। প্যাটাগোনিয়া থেকে ৫০০ কিলোমিটার পূর্বের এই দ্বীপপুঞ্জ ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে ছিল ব্রিটিশদের দখলে। আর্জেন্টিনা বরাবরই এটাকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে আসছিল। মার্গারেট থ্যাচারের যুক্তরাজ্যও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তারা দক্ষিণ আটলান্টিকে পাঠাল বিশাল নৌবহর। শুরু হলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।
৯ শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল ১৪ জুন পর্যন্ত। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও বেলজিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচের ঠিক পরদিন আর্জেন্টিনার সশস্ত্র বাহিনী আত্মসমর্পণ করে ইংল্যান্ডের কাছে।